আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ চৌকিদারী প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় অপরাধীদের শনাক্তকরণ, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশকে সহযোগিতা করতে উপজেলার সব ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় আমতলী থানার গ্রাউন্ড ফ্লোরে এ বিশেষ চৌকিদারী প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার, বরগুনার নির্দেশনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার। এ সময় আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকেও গ্রাম পুলিশদের দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহলরত পুলিশকে সহযোগিতা, অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং এলাকায় চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত বা জামিনে মুক্ত অপরাধীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে গ্রাম পর্যায়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে থানাকে তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্জন স্থান, বাঁশঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘরে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য সরাসরি থানার ওসি অথবা সার্কেল এএসপিকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া প্রচলিত বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের জুয়া প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি বা টিকটককেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছুটির সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বখাটেদের উৎপাত প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে বলা হয় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের। কোথাও ইভটিজিং, মারামারি, দাঙ্গা কিংবা বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত থানাকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহযোগিতা করা এবং পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সহায়তা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্যারেডে গ্রাম পুলিশকে পুলিশের চোখ ও কান হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, গ্রামীণ পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধে তাদের দেওয়া সঠিক ও আগাম তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা অপরাধীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ বা আপসের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়। পুলিশের এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমতলী উপজেলার গ্রামীণ পর্যায়ে অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News