আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা এলাকায় ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। বীজ রোপণের প্রায় পাঁচ মাস পরও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। একই জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ছুরিকাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ধানের গোছা হাতে নিয়ে অভিযোগ করেন, আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে তাঁরা ব্রি-৯৮ জাতের বীজ কিনে আউশ চাষ করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। কৃষকদের অভিযোগ, ব্রি-৯৮-এর নামে অন্য জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে।
কৃষক দুলাল হাওলাদার বলেন, তিনি ৮ একর জমিতে ওই বীজের চারা রোপণ করলেও ফলন পাননি। এতে তাঁর আমন চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৃষক দেলোয়ার গাজী ও রনি আহমেদসহ অন্যরাও ক্ষতিপূরণ ও ডিলারের শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, তিনি কোম্পানি থেকে যেভাবে বীজ পেয়েছেন, সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন; অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করেননি!
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, অভিযোগের পর সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করবে। ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News