দক্ষিণের খবর : দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলাসহ সারাদেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীপথে বঙ্গোপসাগরে মিঠা পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উজানের দিকে উঠে আসে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলের সংকট তীব্র হচ্ছে। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যায়, সুপেয় পানি সেখানে কতটা গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সমন্বিত প্রকল্পে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন মিলিয়ে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ চলছে। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তা পেলেও অতীতে সেই অর্থ ও সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে দুর্নীতি দূর করে জনগণের সেবায় এসব সহায়তা কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মূল বার্তা: নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সারাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত নিরাপদ পানি প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News