আতিকুর রহমান ইশতি: দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য আসাদুল হক সবুজকে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তথাকথিত ভূমিদস্যু খ্যাত এক ব্যক্তির দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার এবং আদালতে নেওয়ার সময় তার দুই হাতে পেছনে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় বরগুনার সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-সহ একাধিক সাংবাদিক নেতারা! পূর্বের সংবাদ 👇(লিংকে ক্লিক করুন)
২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বরগুনা সদর থানায় দায়ের করা কোটি টাকা চাঁদাবাজির একটি মামলায় সবুজকে এজাহারভুক্ত তৃতীয় আসামি করা হয়। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার ডোপ টেস্ট করা হলেও পরিবার জানায়, রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সবুজের বাবা জিয়াউল হকের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এদিকে, আসামিকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। বিএমএসএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলতে পারে, তবে হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। সংগঠনটি এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি) অনুযায়ী হাতকড়া ব্যবহার একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা—যা কেবল দুর্ধর্ষ অপরাধী বা পলায়নপ্রবণ আসামিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথচ বিচারপূর্ব একজন নাগরিককে এ ধরনের অবমাননাকর পরিস্থিতিতে ফেলা মানবাধিকার ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী।
মন্তব্য: আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাগত মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News