তালতলী প্রতিনিধি: প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, পুঁজির সংকট ও বাজারজাতকরণের সমস্যায় বরগুনার তালতলীতে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প আজ বিলুপ্তির মুখে। একসময় এই অঞ্চলের রাখাইন নারীদের জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল তাঁত বুনন। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে লুঙ্গি, চাদর, তোয়ালে ও ব্যাগ বিক্রি করে চলত তাদের সংসার। স্থানীয় রাখাইনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুতা ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়া এবং বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক পরিবার এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তুলনামূলক কম দামের বিদেশি কাপড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে গিয়েও সংকটে পড়ছেন তাঁতিরা। একসময় বৃহত্তর পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে বহু পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে হাতে গোনা কিছু পরিবার এ পেশা ধরে রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এতে শুধু তাদের জীবিকা নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাখাইন তাঁতিরা সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ, ন্যায্যমূল্যে তাঁতের উপকরণ, সরকারি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা চান। পাশাপাশি অবৈধ পথে বিদেশি পণ্য প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে তৈরি হবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার সুযোগ।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News