বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে দীর্ঘদিন পর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘বায়তুল রহিম জামে মসজিদ’। স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে কাঠ ও টিন দিয়ে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের পর গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সেখানে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নামাজ আদায়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পরে স্থানীয় মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নিজেদের অর্থ ও শ্রমে প্রাথমিকভাবে মসজিদের কাঠামো নির্মাণ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রেরিত প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও জমির পত্তনগ্রহীতা মো. আবদুর রাজ্জাকের আবেদনসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, খেজুরতলা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব আবদুর রহিম হাওলাদার (মাস্টার)-এর পরিবার ১৯৮৬ সাল থেকে ওই জমিতে বসবাসের পাশাপাশি ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ, সামাজিক বনায়ন এবং মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য টিনশেড ও পরবর্তীতে পাকা মসজিদ নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছিলেন। মুসল্লিদের ওজু ও গোসলের সুবিধার্থে মসজিদের অদূরে একটি ঘাট বাঁধানো পুকুরও তৈরি করা হয়েছিল। নথিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, জমির স্বত্ব ও বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করেন। একই সঙ্গে সেলামি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকেও একাধিকবার সুপারিশসহ মতামত দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ওই জমিতে সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন নেই এবং আবেদনকারীকে জমিটি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে। তবে পরবর্তীতে নৌ-টার্মিনাল স্থাপন ও ড্রেজিংয়ের কথা উল্লেখ করে ওই জমি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর একপর্যায়ে মসজিদটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং সেখানে বালু ভরাট করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে মুসল্লিদের ওই স্থানে নামাজ আদায়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নৌ-টার্মিনালের স্থান জমির দক্ষিণ অংশে এবং ড্রেজিংয়ের জন্য চিহ্নিত এলাকা উত্তর অংশে ছিল। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদ ও আবাসিক অংশের সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সরাসরি সাংঘর্ষিক অবস্থান ছিল না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাদের সম্মিলিত অর্থায়ন ও শ্রমে কাঠ ও টিন দিয়ে প্রাথমিকভাবে ‘বায়তুল রহিম জামে মসজিদ’ পুনর্নির্মাণ করা হয়। গত শুক্রবার পুনর্নির্মিত মসজিদে প্রথম জুমার নামাজে স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি মসজিদটির স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী মসজিদের জমি নিয়ে পূর্বের সিদ্ধান্ত ও জটিলতা নিরসন করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে জমিটি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত মসজিদের স্থায়ী ভবন নির্মাণে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
বরগুনায় খেজুরতলার ভেঙে দেওয়া বায়তুল রহিম জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ
- প্রকাশের সময় : Oct 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: বরগুনায় খেজুরতলার ভেঙে দেওয়া বায়তুল রহিম জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News