বিশেষ প্রতিনিধি : বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হাওলাদারের (৭৭) মৃত্যু নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র রহস্য ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ওঠায় এবং স্বজনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সন্দেহের জেরে মধ্যরাতে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২:৫০ ঘটিকায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে সকালে তিনি নিয়মিত আদালত ও আইনজীবী সমিতির কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে কালীবাড়ির বাসায় ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর এই হঠাৎ মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং মাইকিং করতে নিষেধ করা হয়। এছাড়া তাঁর এক পুত্র সন্তানের বিরুদ্ধে অতীতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রকাশ্যে অশোভন আচরণের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য জনমনে সন্দেহের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে উত্তর ইটবাড়িয়া নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনজীবী সমিতির বিশিষ্ট এ সদস্যের মৃত্যু স্বাভাবিক কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে!
স্থানীয় সচেতন মহল ও শুভানুধ্যায়ীরা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০:০০ ঘটিকায় তাঁর মরদেহ দাহ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি কঠোরভাবে আমলে নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর এমন আকস্মিক ও রহস্যঘেরা মৃত্যুতে বরগুনার আইনজীবী সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News