আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার নদী, খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য ক্রমেই কমছে। একসময় সহজলভ্য কই, শোল, বোয়াল, মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, মোলা, বাইম, ফোলি ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলে ও বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল-বিল ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ ও পানি নিষ্কাশন, নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, নির্বিচারে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ ধরা এবং কারেন্ট ও মিহি জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের সংকটের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং কোথাও কোথাও মাছ ধরতে বিষ প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, আগে হাটের দিনে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও এখন বাজার মূলত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার মতো চাষের মাছনির্ভর হয়ে পড়েছে।
আমতলী উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় বছরে মাছের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ১৩৭ টন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৫ টন আসে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে এবং বাকি অংশ আসে মাছের খামার থেকে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, দেশীয় মাছের সম্পদ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। মাছ ধরার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-খাল ও প্রজননক্ষেত্র পুনরুদ্ধার, অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ রক্ষায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানো না গেলে আমতলীর দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য আরও দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News