বরিশাল প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য, নদী ও সাগরের মোহনা এবং শান্ত গ্রামীণ আবহে ঘেরা বরগুনা জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সম্প্রতি ‘লীলাবতী পর্যটন ও পিকনিক স্পট’ দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সক্রিয় ভূমিকায় এখানকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পর্যটন সেবার মান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটন উদ্যোক্তা কমিটির উদ্যোগে বরগুনার দর্শনীয় স্থানগুলোর ব্র্যান্ডিং, ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই বিকাশমান খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই করতে সরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষিত ট্যুর অপারেটর ও দক্ষ ট্যুর গাইড গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে দক্ষ গাইডের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর প্রচার এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে উপকূলীয় এ জেলার পর্যটন খাত দ্রুত বিকশিত হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
আসন্ন বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism” (ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন)।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩০ টায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের “সুবর্ণজয়ন্তী” সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সভায় সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটি। পর্যটন উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে দক্ষ ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণসহ বরগুনার পর্যটন সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
আরিফ - সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী,,
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News