প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 27, 2026 ইং
বরগুনার আমতলীতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম, গাছ কাটা এবং রাতের আঁধারে কাজ পরিচালনার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে কাজ বন্ধের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ২০ লাখ টাকার এ খাল খনন প্রকল্পের দায়িত্ব পান কুকুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু। গত এপ্রিল মাসে ২ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কালিপুরা খাল খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং কাজটি তার অনুকূলে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ মে থেকে খনন কাজ শুরু হলেও শুরু থেকেই প্রকল্পের নিয়মনীতি মানা হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, খাল সেচ দিয়ে পানি অপসারণের পর খনন করার কথা থাকলেও ভরা খালেই ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে খালের দুই পাড়ের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এছাড়া গত তিন দিন ধরে রাতের আঁধারে খনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল জব্বার, নাদিম আহমেদ, রাসেল ও খলিল অভিযোগ করে বলেন, খাল খননের নামে কোটি টাকার গাছ ধ্বংস করা হয়েছে, অথচ এতে কৃষকদের তেমন কোনো উপকার হবে না। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় নারী বাসিন্দা মুনসুরা বলেন, “আমার কয়েকটি গাছ মেশিন দিয়ে কেটে ফেলছে। রাতের বেলা ভরা খাল কাটার এমন কাজ আগে দেখিনি।”
কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল ও তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, খাল খননের নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. কায়েসুর রহমান ফকু বলেন, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে কাজ করার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করার সময় কিছু গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, সেচ ছাড়া খনন এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ওই খাল আর খনন করা হবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন