প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 17, 2026 ইং
বরগুনায় ৩০ বছর পর আদালতের নির্দেশে উদ্ধার হলো শিক্ষকের ৬ শতাংশ জমি

বরগুনা প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আদালতের নির্দেশে বরগুনার মরহুম শিক্ষক জহিরুল হক-এর ৬ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে শনিবার সকালে জেলা জজ কোর্টের নাজির মো. সাইফুজ্জামানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১৪ সদস্যের একটি পুলিশ দল অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে শিক্ষক জহিরুল হকের বড় ছেলে মোজাহারুল ইসলাম আজাদ নামমাত্র ভাড়ায় জমিটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে আবুল হাসেমের কাছে হস্তান্তর করেন। শুরুতে কয়েক মাস ভাড়া প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ধীরে ধীরে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বিবাদী পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং পরবর্তীতে সেটি বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ২০১৭ সালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৩৫৬/২০১৭) দায়ের করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষ ছিলেন মরহুম জহিরুল হকের সন্তানরা— মোজাহারুল ইসলাম আজাদ, এনামুল হক, মোজাম্মেল হক, মমতাজুল হক, নাজমুল হক ও জায়েদা বেগম। একমাত্র বিবাদী ছিলেন আবুল হাসেম।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের মালিকানা স্বীকার করে উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত শনিবার সকালে জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা জজ কোর্টের নাজিরের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে রায় বাস্তবায়ন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমানও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাদীপক্ষের সদস্য এনামুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমি অবৈধভাবে দখল করা ছিল। আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান জানান, সকল প্রমাণ পর্যালোচনায় আদালত বাদীপক্ষের মালিকানা নিশ্চিত করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন, যা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered