বিশেষ প্রতিবেদন | বরগুনা: বরগুনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কয়েকটি সরকারি সড়ক নির্মাণ টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
জানা গেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় “গুরুত্বপূর্ণ পল্লী পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প”-এর আওতায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার চারটি সড়ক নির্মাণ টেন্ডার নিয়ে এ বিতর্কের সূত্রপাত। প্রকল্পগুলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত প্রায় ৮৫ কোটি টাকার বৃহত্তর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ।
অভিযোগকারী তালতলীর বাসিন্দা ওমর আবদুল্লাহ শাহিন। তিনি নিজেকে প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক সহকারী ব্যক্তিগত সচিব এবং বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এলজিইডি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো লিখিত অভিযোগে তিনি এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়।
তবে এলজিইডি সূত্র জানায়, জেলা কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হলেও কোনো অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। কর্মকর্তাদের দাবি, সব টেন্ডারই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০২৫ এবং ই-জিপি পদ্ধতি অনুসরণ করে ওপেন টেন্ডারিং মেথডের (ওটিএম) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নিউজ সোর্স 👇
এ বিষয়ে এলজিইডির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল কুমার গেইন বলেন,
“আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্তে প্রকৃত তথ্যই উঠে এসেছে।”
বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, “সরকারি ক্রয় বিধিমালা ও এলজিইডির নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার মূল্যায়ন এবং কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
বিজয়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, ই-জিপি সিস্টেমে অনলাইনের মাধ্যমে দরপত্র জমা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতাকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি বরিশাল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা না পেলেও প্রশাসনিক কারণে বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আরও জানায়, অভিযোগকারী শাহিন নিজেও একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে লাইসেন্স ও কারিগরি ত্রুটির কারণে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহিনকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কিত তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার ফেসবুক আইডি লিংক 👇
https://www.facebook.com/omar.abdullah.shahin.2025
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অভিযোগ ওঠা অস্বাভাবিক নয়; তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।