প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 16, 2026 ইং
বিষখালীর ভাঙন রোধে বামনা-কাকচিড়া ব্লক প্রকল্প অনুমোদন

উপকূলীয় জনপদে স্বস্তি, দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর
বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বামনা-কাকচিড়া ব্লক প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উপজেলার কলাগাছিয়া লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণ রামনা খেয়াঘাট হয়ে কাকচিড়ার উত্তর গুদিঘাটা পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নকে নদীভাঙন রোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্প অনুমোদনের পর গত শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর বরগুনা বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান।
দক্ষিণ রামনা এলাকা থেকে পরিদর্শন শুরু করে প্রতিনিধি দল ট্রলারযোগে বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ী, বলইবুনিয়া বেড়িবাঁধ এবং রামনা লঞ্চঘাটসহ প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য আলহাজ রুহুল আমিন শরীফ। তিনি বলেন, উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ব্লক প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। নদীভাঙন রোধ করা গেলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এ প্রকল্প অনুমোদনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং আলহাজ রুহুল আমিন শরীফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নদীভাঙন থেকে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমিই রক্ষা পাবে না, বরং বিষখালী তীরবর্তী এলাকার নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে এবং আধুনিক নগর উন্নয়নের পথও সুগম হবে।
পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান বলেন, প্রকল্পের কারিগরি মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শওকত ইকবাল মেহেরাজ, পাথরঘাটা পানি উন্নয়ন উপবিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে এবং বিষখালী নদীর ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে হাজারো একর আবাদি জমি ও বসতভিটা।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন