
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার:
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি-র ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ খবরে বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর আধুনিক সেতু নির্মিত হলে বরগুনা, বেতাগী, পাথরঘাটা, আমতলী ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকাল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
জানা গেছে, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সুবিধা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে আমতলী, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একইভাবে বিষখালী নদীতে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে বরগুনা, ঝালকাঠি ও আশপাশের জেলার মানুষের যাতায়াতে নতুন গতি আসবে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় গুনতে হয়। সেতু নির্মাণের ফলে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে এবং উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরাও এ উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সেতু নির্মিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন এবং দুর্যোগকালে উদ্ধার কার্যক্রমে এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর নির্মিতব্য সেতু দুটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে। তারা আশা করছেন, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির প্রচেষ্টায় দ্রুতই প্রকল্পের দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে পায়রা ও বিষখালী নদীতে সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বৈষম্যের শিকার। আমি সবসময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরেছি এবং জনগণের স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেতু নির্মিত হলে শুধু বরগুনা নয়, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।