প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 10, 2026 ইং
বরগুনায় এলজিইডির সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে! অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন,
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। জানা গেছে, আগামী ১৪ মে থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
লিখিত অভিযোগটি করেছেন তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। তিনি বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন-এর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে তালতলী উপজেলার বগী-কড়াইবাড়িয়া সড়কের প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজেরও অভিযোগ উঠেছে! স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও খোয়া উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও হাত দিয়েই বিটুমিন মিশ্রিত অংশ তুলে ফেলা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রাইম কোট ব্যবহার না করেই খোয়ার ওপর পিচ ঢালাই করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের খোয়া ও বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে সেগুলো হলো— "বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স", কথিত শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান "এমএস নুর কনস্ট্রাকশন", নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান "লেলিন-দিপ" (জয়েন্ট ভেঞ্চার) "এসএম লেলিন ট্রেডার্স" এবং ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান "নিশিত বসু ট্রেডার্স" !!
স্থানীয় সমাজসেবক জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রাতে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সে সময় যথাযথ তদারকি ছিল না। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারপক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তারা বাদ পড়েছে। তবে সড়ক নির্মাণকাজে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে এবং তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, তৎকালীন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন মোল্লা-র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন