প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 7, 2026 ইং
আমতলীতে সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বর্তমান শ্রমিকদল নেতার সংবাদ সম্মেলন!

আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা: আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রী-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতা ও চালকের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে তারিকুল ইসলাম সোহাগ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমতলীর থ্রী-হুইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকে চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নিবন্ধন নেওয়া হয়। পরে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি করা হয়। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম মেনে যানবাহন পরিচালনা করা হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জালাল উদ্দিন ফকির ও তার ছেলে রাহাত ফকির বিভিন্ন সময় গাড়ি চলাচলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত মঙ্গলবার মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে সিএনজি স্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে জালাল উদ্দিন ফকির ও তার সহযোগীরা তাকে এবং সুমন নামে আরেকজনকে আটক করে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে জালাল ফকিরের সহযোগী মোঃ আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মিল্টন হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, রাহাত ফকির দীর্ঘদিন ধরে থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছেন। এমনকি সড়কে গাড়ি চালাতে হলে চালকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিল্টন ও সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “জালাল ফকির তার ছেলের সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি মিল্টন হাওলাদার ও সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা ও নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিকদল নেতা এবং থ্রী-হুইলার ও সিএনজি চালক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, “পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মিল্টনকে টাকাসহ হাতে-নাতে আটক করেছে। তারাই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে কেউ নিজেকে নির্দোষ দাবি করার অধিকার রাখেন।”
সংবাদ প্রেরক:
রাসেল মিয়া
আমতলী, বরগুনা
০১৭১৬৭১৪১৮৩
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন