প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 25, 2026 ইং
আমতলীতে বিএনপিকে কটূক্তি নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:আহত ২

আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা: বরগুনার আমতলীতে বিএনপিকে কটূক্তিকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চাঁদা দাবি, হামলা ও সংবাদ সম্মেলন: পৃথক ঘটনায় উভয় দলের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) রাতে আমতলী পৌরসভার একে স্কুল চৌরাস্তা ও একে হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে,
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শহীদ খান স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে বসে বিএনপি ও বর্তমান সরকারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে জানা যায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত পৌর ছাত্রদলের কর্মী সাকিব এর প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে, শহীদ খান ও তার সহযোগীরা সাকিবের ওপর প্রথমে অতর্কিত হামলা চালান। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাকিবের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পরদিন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা শহীদ খান ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল কর্মী সাকিবের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন-
অন্যদিকে ঘটনার একই দিন রাতে আনুমানিক ৯টার দিকে আমতলী পৌরসভার এ,কে স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় ঠিকাদার মো. শহীদুল ইসলাম খাঁনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ করেন আহত শহীদুল ইসলাম খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল! ঘটনার দিন রাতে চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খাঁন বলেন, “ যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করছিলেন। এ সময় সাকিব নামের এক কর্মী প্রতিবাদ করলে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এ অভিযোগ তোলা হয়েছে!
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সানাউল্লাহ সানি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সত্যতা সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) মো. তারিকুল ইসলাম মাছুম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, একই দিনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে,
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন