প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 24, 2026 ইং
তালতলীতে জেলেদের চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগে বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে করাইবাড়িয়া বাজারে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে ইউনিয়নের কয়েকশত মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করাইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭৬৫ জন। সরকার জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সহায়তায় প্রতি জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দুই মাসের জন্য প্রত্যেক জেলের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলের তালিকার বাইরে আরও ৭১ জনের নামে অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। পরে ৮৩৬ জন জেলের নামে মোট ৬৬ দশমিক ৮৮০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হলেও ৭৬৫ জন জেলের মধ্যে ৬১ দশমিক ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ৭১ জনের নামে বরাদ্দকৃত ৫ দশমিক ৬৮০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গত বুধবার করাইবাড়িয়া ইউনিয়নের ছয় ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইউপি সদস্য পিযুষ কান্তি হাওলাদার। বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পুলুকেশ চন্দ্র মজুমদার ও ফয়সাল হাওলাদারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, “সরকার জেলেদের জন্য যে চাল দিয়েছে, তা আত্মসাৎ করা হলে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, “নিবন্ধিত সব জেলের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখানে আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতেই মানববন্ধন করা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন