প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 18, 2026 ইং
বরগুনার এক কর্মকর্তার জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কুয়াকাটা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরগুনার তালতলী উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন আহম্মেদ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি বরগুনার তালতলী উপজেলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এসএ ১৩০০ নং খতিয়ানভুক্ত এবং বিএস ৪২৪৯ নং খতিয়ানের আওতাধীন ৫০৫৯, ৫০৬২ ও ৫০৬৩ নং দাগে মোট ২ দশমিক ২৮ একর জমি তিনি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্তসূত্রে বৈধভাবে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
তিনি জানান, ওই জমি সংক্রান্ত দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-৪৫৫/২১) বর্তমানে কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার শুনানি শেষে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় বিবাদীপক্ষকে কোনো প্রকার গাছ কাটতে, জমির ক্ষতি বা পরিবর্তন করতে এবং স্থাপনা নির্মাণ না করার কথা উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৩১ মার্চ গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জমিতে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মজিবর মোল্লা, জয়নাল শেখ, শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন। তারা নিয়মিত হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে গত ১৫ মার্চ মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে ১৬ মার্চ পুলিশ উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা।”
তিনি অবিলম্বে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন জয়নাল শেখ বলেন, আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অন্য দাগ ও খতিয়ানের জমির ওপর দেওয়া হয়েছে। তারা যে স্থানে ঘর নির্মাণ করেছেন, সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন