প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং
বরগুনায় তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে আদালতে মামলা

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় এক তালাকপ্রাপ্ত নারী টেইলারকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামি মো. মামুন চৌকিদার (৩৫), তিনি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউঠা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভুক্তভোগী নারী তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর সোনাউঠা গ্রামে রাস্তার পাশে একটি টেইলারিং দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই দোকানের পাশেই আসামি মামুন একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। এ সময় রিলিফের চাল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন এবং প্রায়ই তার দোকানে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৭ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগী নারী দোকানের পেছনের বারান্দায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় ঘুমিয়ে পড়লে আসামি দোকানে প্রবেশ করে তাকে স্পর্শ করে। এতে তার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করেন। এ সময় আসামি তার মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, আসামি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বারবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া ওষুধ সেবনের পর তার রক্তপাত শুরু হয় এবং অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় এক নারীর সহযোগিতায় তার গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ চলতি মাসের ৮ এপ্রিল বিকেলে বিয়ের কথা বলে আবারও ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং জানায় তার পূর্বে বিবাহিত স্ত্রী রয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি আত্মীয়স্বজনকে জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখাকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন