প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং
বরগুনায় বিষখালীর তীরে ফের সচল অবৈধ কয়লা চুল্লি!!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা: বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আজগরকাঠী গ্রামে বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ কয়লা চুল্লিগুলো বারবার অভিযান, জরিমানা ও ভাঙচুরের পরও বন্ধ হচ্ছে না। কিছুদিন বন্ধ থাকার পরই পুনরায় চালু হচ্ছে এসব পরিবেশবিধ্বংসী চুল্লি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযানে চুল্লিগুলোতে জরিমানা করা এবং অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে ফেলা হলেও অদৃশ্য প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু করছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে স্থায়িত্বের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুল্লিগুলো থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এতে থাকা কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ব্রংকাইটিসসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া কয়লা পোড়ানোর বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ সরাসরি বিষখালী নদীতে মিশে জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে। এতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নদীকেন্দ্রিক এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু জরিমানা বা ভাঙচুর করে দায় শেষ করলে হবে না। এসব অবৈধ চুল্লি স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরগুনার সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব জানান, চুল্লিগুলো পুনরায় চালু হলে আবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে মামলা দায়েরসহ আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জরিমানাকে উপেক্ষা করে আবার কার্যক্রম শুরু করছে, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।”
পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় বিষখালী নদী তীরবর্তী এই নীরব দূষণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন