প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং
২০ মাসের বেতন বকেয়া, অনিশ্চয়তায় পাথরঘাটার টিকাবাহী পোর্টারদের জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় দুর্গম এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পোর্টাররা (বাহক)। সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি, প্রশান্ত কুমার ও আনোয়ার হোসেন—এমনই কয়েকজন পোর্টার, যারা উপজেলার সাত ইউনিয়নের ১৭৮টি টিকাদানকেন্দ্রে সময়মতো ভ্যাকসিন পৌঁছে দেন।
তাদের কাজ অনেকটা পুরনো দিনের ডাকহরকরাদের মতো। রোদ, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা পৌঁছে দেন। তবে মানবিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও নিজেদের জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
পোর্টার আনোয়ার হোসেন জানান, মাসিক ৯ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করলেও গত ২০ মাস ধরে তিনি কোনো বেতন পাননি। স্বল্প ও অনিয়মিত আয়ের কারণে সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি ও প্রশান্ত কুমার জানান, তাদের বেতন ৯ মাস ধরে বকেয়া। বর্তমানে দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে মাসিক আয় দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা (২৪ কর্মদিবস হিসেবে), যা মাত্র তিন মাস আগেও ছিল দৈনিক ৫০০ টাকা।
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মাস্টাররোলে চাকরি করে আসা সুশীল মিস্ত্রি বলেন, ১৯৮৯ সালে মাত্র ৯৬০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করলেও আজও তা স্থায়ী হয়নি।
পোর্টাররা জানান, বেতন বকেয়া থাকায় তাদের পরিবারগুলো ঋণের ভারে জর্জরিত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম ইউনিয়নগুলোতে ভ্যাকসিনের আইসবক্স নিয়ে যেতে গিয়ে তাদের সঙ্গে থাকে শুধু শুকনো খাবার—চিড়া বা মুড়ি। অর্থাভাবে কোনো হোটেলে বসে একবেলা ভাত খাওয়ার সামর্থ্যও নেই তাদের।
তারা আরও জানান, বছরের পর বছর কাজ করলেও কোনো ঈদ বোনাস বা বৈশাখী ভাতা পান না তারা। ফলে উৎসব এলেও তাদের জীবনে আনন্দের ছোঁয়া লাগে না।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, পোর্টাররাই টিকাদান কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি। অথচ তাদের বেতন ও সুবিধা অত্যন্ত অমানবিক এবং অনিয়মিত। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পোর্টারদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও তাদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা নিশ্চিন্তে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered