প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং
তালতলীতে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল নিয়ে মাঠ দিবস

উপকূলে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: বরগুনার তালতলী উপজেলায় পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার কলারঙ এলাকায় উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক এক মাঠ দিবসে কৃষকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এ সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ ও সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, পটুয়াখালী। এতে অর্থায়ন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রকল্প, যার লক্ষ্য উপকূলীয় ও বরেন্দ্র অঞ্চলে পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার ফসলের বিস্তার ঘটানো।
মাঠ দিবসে বার্লি, কাউন, চিনা ও সরগমের মতো ফসলের প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ফসল লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল হওয়ায় উপকূলীয় পতিত জমিতে সহজেই চাষ করা সম্ভব। যেখানে রবি মৌসুমে ধান, গম বা ভুট্টা চাষ কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এগুলো কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. নাথু রাম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ড. নাজিরুল ইসলাম ও ড. মোহাম্মদ মোতাছিম বিল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠা পানির সংকটে প্রতিবছর অনেক জমি পতিত থাকে। এসব জমিতে দানাদার ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনও বাড়বে।
তারা আরও জানান, এসব ফসল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি বেটা-গ্লুকান নামক দ্রবণীয় আঁশ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এসব ফসল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মাঠ দিবসে কৃষকদের এসব ফসলের চাষাবাদ পদ্ধতি, উৎপাদন প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে কৃষকরা জানান, লবণাক্ত জমিতে যদি ভালো ফলন পাওয়া যায়, তাহলে তারা এ ধরনের ফসল চাষে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে দানাদার ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন