প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 8, 2026 ইং
আমতলীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫৯

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যাই বেশি। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ২৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
৬ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বেডের অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আড়াই বছরের শিশু তানহা ইসলাম পাতলা পায়খানা ও বমি নিয়ে সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মা তামান্না বেগম জানান, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় শুয়ে মেয়ের চিকিৎসা চলছে। বারান্দায় ফ্যান না থাকায় গরমে কষ্ট আরও বেড়েছে।
একইভাবে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের তিন বছরের শিশু জাওয়াদুল ইসলাম এবং হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইচর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কহিনূর বেগম। কহিনূর বেগম জানান, সোমবার সকাল থেকে তার বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বাড়িতে স্যালাইন খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কয়েকজন পল্লিচিকিৎসক ও ইউপি সদস্য জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডায়রিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে না গিয়ে গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাছেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফারুক আকন বলেন, প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন ইসলাম সুমন বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং তীব্র গরমে তরমুজসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ার সংক্রমণও বাড়ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে শয্যার সংকট থাকায় অনেক রোগীকে বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের আপ্রাণ চেষ্টায় রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় খাবার ও আইভি স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন