প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 6, 2026 ইং
তালতলীতে অস্তিত্ব সংকটে ৭১ খাল: সেচ সংকটে বিপাকে কৃষকেরা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি প্রবাহিত খাল বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দখল, দূষণ এবং পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে তীব্র সেচ সংকট এবং বর্ষা মৌসুমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদী, অন্ধারমানিক নদী ও বঙ্গোপসাগরের স্রোতের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছিল শতাধিক শাখা খাল। একসময় এসব খালে শীত মৌসুমের জন্য মিঠা পানি সংরক্ষণ করা হতো এবং বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যেত।
কৃষকদের অভিযোগ, গত দুই দশকে উপজেলার অন্তত ৭১টি খাল বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। কোথাও প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, আবার কোথাও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে সমতল জমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো ধান বা রবি শস্য আবাদ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নামার পথ না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তালতলীর কৃষক মহারাজ মিয়া, হাসান মল্লিক ও ইসমাইল মৃধা বলেন, আগে এসব খাল দিয়ে শীতকালে বোরো ধান ও তরমুজ চাষ করা হতো। এখন খাল থাকলেও পানির অস্তিত্ব নেই। চারদিকে মাটি আর ঘাসে ভরে গেছে। পানির অভাবে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। আবার বর্ষা এলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমি তলিয়ে যায়। প্রভাবশালীরা খালের মুখ দখল করে পাকা ঘর তুলেছে, ফলে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খননযোগ্য খালগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষিজমিতে আবারও সেচ সুবিধা ফিরে আসবে এবং কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন