প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 1, 2026 ইং
পাথরঘাটায় খাদ্যগুদামের জেটির জায়গা দখলে নিয়ে রাতের আঁধারে উঠল একাধিক দোকানঘর!

পাথরঘাটা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে সরকারি খাদ্যগুদামের জেটির জায়গা দখল করে রাতের আঁধারে একাধিক দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বড় ব্রিজ সংলগ্ন খাদ্যগুদামের সামনের সরকারি জায়গা দখল করে দ্রুত কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলোর সামনে বসে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যেই নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানটি খাদ্যগুদামের চাল ও ধান লোড-আনলোডের জেটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত দখল প্রক্রিয়া, যা প্রশাসনের চোখের সামনেই সংঘটিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আঁধারে জায়গাটি দখল করে এবং পরে প্রতিটি দোকান প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই দখল বাণিজ্যের সঙ্গে হাসান আকন, শাহাদাত, খান এমাদুল, বাবুল (ব্যাংক বাবুল) ও তার ছেলে রকির নাম জড়িত রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ বাদশা বলেন, “সকালে এসে দেখি খাদ্যগুদামের সামনে কয়েকটি দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। কারা করেছে কিছুই জানি না। এই জমি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগুদামের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা।”
খাদ্যগুদাম সংলগ্ন আরেক ব্যবসায়ী শাহাদাত ফিটার বলেন, “রাত ১২টার পর এসব ঘর তোলা হয়েছে। এখানে পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটলো, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। এই জায়গাটি খাদ্যগুদামের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই জায়গা দখল হয়ে গেলে খাদ্যগুদামের চাল ও ধান পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা জনস্বার্থে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ জমি দ্রুত দখলমুক্ত করে আগের মতো খাদ্যগুদামের কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিম আক্তার বলেন, “পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি দায়িত্বে ফিরলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জমি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন