প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 31, 2026 ইং
সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত আমতলী টাউন হল ১৮ বছরেও হয়নি সংস্কার

স্থানীয়দের দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি-
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টাউন হলটি প্রায় ১৮ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Sidr-২০০৮) এ ভবনটির টিনের ছাদ উড়ে গেলে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং এরপর থেকে আর ব্যবহারযোগ্য করা হয়নি। ফলে আমতলীতে সভা, সেমিনার কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য কোনো অডিটোরিয়াম না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে টাউন হলটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের মে মাসে দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে একটি করে অডিটোরিয়াম নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমতলীতে এই টাউন হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময়ের তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদার আমতলীকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেন। জমি বরাদ্দ ও অর্থায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধের পর আমতলী থানার প্রথম প্রাইভেট-ইন-চার্জ কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম পাশা নির্মাণকাজ তদারকি করেন। টাউন হলটির নকশা করেন মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গাজী আমির হোসেন এবং আতাহারুদ্দিন আকন।
তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট Sheikh Mujibur ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম তালুকদার স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে টাউন হলের একটি অংশে জিমনেশিয়াম চালু করেন, তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮৬ সালে আমতলী উপজেলা পরিষদ টাউন হল সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এ সময় ভবনটিকে সিনেমা হলে রূপান্তর করতে শ্যামলী সিনেমা হলের মালিক মৃত জুলফিকার আহমেদ শাহিন-এর সঙ্গে চুক্তি করা হলে সাংস্কৃতিক কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এরপরও তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ভবনটিতে ‘সুরভি সিনেমা হল’ চালু করেন। কয়েক বছর চলার পর লোকসানের কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।
পরে স্থানীয় উদ্যোগে হালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুল আলম ঝনটু তালুকদার-এর তত্ত্বাবধানে আংশিক সংস্কার করা হয় এবং মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। সে সময় উদীচী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও একতা ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন সেখানে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া করত।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গলাচিপার আব্দুল আলীমের মালিকানায় ভবনটি ‘লাভলু সিনেমা হল’ নামে আবার চালু হয়। কিন্তু ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্যের নির্দেশে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে (Cyclone Sidr) ভবনটির ছাদ উড়িয়ে দিলে টাউন হলটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, টাউন হলটি সংস্কার করা হলে স্থানীয় তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা যাবে। তিনি দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য চালু করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ভবনটি পরিদর্শন করে এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অডিটোরিয়াম হিসেবে চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে দ্রুত আমতলী টাউন হলটি সংস্কার করা হলে এলাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন