প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 31, 2026 ইং
বরগুনায় বাড়ছে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৮

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় বাড়ছে হাম সংক্রমণের আতঙ্ক। জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন রোগী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৪ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ জনের নমুনা উন্নত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন রোগীর শরীরে রুবেলা সংক্রমণও নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩৭টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ভর্তি রোগীদের মধ্যে একজন ছাড়া প্রায় সবাই শিশু।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর বাবা জানান, পায়খানা-প্রস্রাবের সমস্যার কারণে দুই-তিন দিন আগে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, সে হাম আক্রান্ত। চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখভাল করলেও বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক শিশুর খালা মুন্নী আক্তার বলেন, “চার দিন ধরে হাসপাতালে আছি। বেশিরভাগ ওষুধ, বিশেষ করে ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।”
একই অভিযোগ করেন আক্রান্ত শিশুর মা আছমা। তিনি বলেন, “নয় দিন ধরে হাসপাতালে আছি। সিস্টাররা ওষুধ লিখে দেন, পরে বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়।”
রোগীর স্বজন সাহিদা বলেন, “যত রোগী আসছে, সেই অনুযায়ী হাসপাতালে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সরকার থেকে ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো হলে উপকার হতো।”
এ বিষয়ে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, মাসের শুরু থেকেই হাম আক্রান্ত রোগী আসা শুরু হলে জরুরি বিভাগের সেবার মান বাড়ানো হয়েছে। হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সারা দেশের মতো বরগুনাতেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে এটি যেন মহামারীতে রূপ না নেয়, সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জেলার সব উপজেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো এবং আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বরগুনায় হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন