প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 30, 2026 ইং
তালতলীতে ঝড়ে উড়ে গেছে স্কুলের ছাউনি: খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে ১৫৪ শিক্ষার্থী

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরের ছাউনি সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পাঠ গ্রহণ করছে। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিদ্যালয়ের ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৩১ বছরেও কোনো পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ১৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিন নিয়মিত উপস্থিত থাকে ১২০ জনেরও বেশি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া টিনশেড ঘরটিই ছিল বিদ্যালয়ের একমাত্র শ্রেণিকক্ষ। সেটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কোনো কার্যকর শ্রেণিকক্ষ অবশিষ্ট নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা কখনো গাছের নিচে, আবার কখনো ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরের অবশিষ্ট কাঠামোর পাশে বসে পাঠ গ্রহণ করছে। এতে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। আকস্মিক বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কায় যেকোনো সময় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টির দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়টির সভাপতি মো. সফিউল্লাহ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলমুখী রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া পাঠদান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি অনুদান এবং একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়টির জন্য একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন