প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 28, 2026 ইং
তালতলীতে কাবিখা প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ:

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে দ্রুত কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য (চাল) উত্তোলন করে বিক্রি করারও অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার ফুট রাস্তা নির্মাণের জন্য সোয়া সাত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চান্দখালী গ্রামের কড়ইতলা ভারানি খালের মোহনার স্লুইসগেট থেকে মোতাহার মৃধার কালভার্ট পর্যন্ত তিন হাজার ফুট মাটির রাস্তা পূর্ণনির্মাণের জন্য ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খানকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়।
প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প সভাপতি ইব্রাহিম খান তার ভগ্নিপতি নিষিদ্ধ ঘোষিত পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধার সঙ্গে যোগসাজশ করে শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে ভেকু দিয়ে দ্রুত কাজ করাচ্ছেন। এতে এলাকার দরিদ্র শ্রমিকরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩ দশমিক ৩২৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে সেই টাকা দিয়ে ভেকু মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে রাস্তার কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান তালুকদার, দুলাল তালুকদার, খলিল আকন, মাসুম শরীফ ও আমির হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকার ভালো রাস্তা কেটে নিচ থেকে মাটি তুলে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগও নষ্ট করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধা বলেন, “ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি কাজ করছি।”
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলন করে বিক্রি করেছি এবং সেই টাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করছি।” তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কমিশন দিয়ে ভেকুর মাধ্যমে কাজ করে আসছি। নতুন কোনো নিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।”
তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম তার সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির যোগসাজশ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।”
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বিধিমালা পরিপন্থী।”
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার বলেন, “কাবিখা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন