প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 24, 2026 ইং
আমতলীতে ধানের কুড়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে ধানের কুড়া ক্রয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ তুলে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসান।
গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর ১টায় আমতলী উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে হাসান অভিযোগ করেন, গত ২১ মার্চ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ধানের কুড়া ক্রয়কে কেন্দ্র করে তার পিতা আয়নালী আকন ও একই গ্রামের সোনা মিয়া প্যাদার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শনিবার সকালে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে তোতা মিয়া, আতাহার প্যাদা, বশির প্যাদা, বেল্লাল প্যাদা, মেহেদী হাসান, মাসুম প্যাদা, সোহেল প্যাদা ও জিহাদ হোসেনসহ ৮–৯ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং তার পিতা আয়নালী আকন, ভাই সজিব, আল-আমিন, রুহুল আমিন ও মাতা রোকেয়া বেগমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থার অবনতি দেখে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে মো. সজিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান হাসান।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ২২ মার্চ রাতে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৮–৯ জনকে আসামি করে তার ভাই রুহুল আমিন আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পাল্টা একটি মামলা দায়ের করে তাদের মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মামলা প্রত্যাহার না করলে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন হাসান।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোনা মিয়া প্যাদাসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দ্র দে জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন