প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং
তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নে কমিউনিটি ভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা): বরগুনার তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর ও পায়রা নদীর মোহনায় অবস্থিত ৭নং সোনাকাটা ইউনিয়নে ‘কমিউনিটি ভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা’র চূড়ান্ত ভ্যালিডেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উপকূলীয় প্রান্তিক জেলে ও সাধারণ মানুষের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ‘ফিশারফোক ইন্টিগ্রেশন ফর সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাট এন্ড ন্যাচারাল ইকোসিস্টেম ট্রান্সফরমেশন (ফিশনেট)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি সোনাকাটা ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে কমিউনিটি বেজড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিডিপি) এবং এতে সহযোগিতা দিচ্ছে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর ওশান গ্রান্টস প্রোগ্রাম।
সিপিপি ইউনিয়ন ডেপুটি টিম লিডার মো. সোহরাপ ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজী মো. ইউনুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিবিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মিরাজ, ইউপি সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির (ইউডিএমসি) সদস্য, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় মৎস্যজীবী প্রতিনিধি এবং সিবিডিপির ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. ইমরান ও বিথী আক্তার।
সভায় তৃণমূল জেলে ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তৈরি করা খসড়া দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন ফিশনেট প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার রিয়াজুল ইসলাম। উপস্থাপনায় তিনি জানান, অংশগ্রহণমূলক গ্রামীণ সমীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে এলাকার প্রধান দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত ও নদীভাঙন চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত কমিউনিটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য দুর্যোগকালীন মৃত্যুহার কমানো এবং জেলে সম্প্রদায়ের ট্রলার ও জালের মতো মূল্যবান সম্পদ রক্ষা করে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনা।
তিনি আরও জানান, ভ্যালিডেশন সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দেশনামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান ফরাজী মো. ইউনুস বলেন, “আমাদের ইউনিয়নটি দুর্যোগের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। সঠিক প্রস্তুতির অভাবে প্রতি বছর জেলেদের জানমালের ক্ষতি হয়। সিবিডিপি ও ফিশনেট প্রকল্পের এই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের কার্যকর পথনির্দেশনা দেবে।”
সিবিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, “বাইরের সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় জ্ঞান ও সম্পদ ব্যবহার করে কমিউনিটির নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই পরিকল্পনা প্রান্তিক জেলে সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় একটি কার্যকর রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।”
উন্মুক্ত আলোচনায় ইউডিএমসি সদস্য, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে জেলে সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে ‘কমিউনিটি ভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন