প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং
বরগুনার আমতলীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

সাইফ সোহেল (বিশেষ প্রতিনিধি): বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬ নং আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন খাতের ট্যাক্সের লাখ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নথিপত্রে ভুয়া স্বাক্ষর গ্রহণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মনজুরুল হক কাওছার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বাবদ সংগৃহীত অর্থ এবং বিভিন্ন ট্যাক্সের টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। পরিষদে বর্তমানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও রেজিস্ট্রার খাতায় মাত্র নব্বই জনের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে, বাকিদের কোনো তথ্যই পরিষদে সংরক্ষিত নেই। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রশাসক নিয়োগের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ট্রেড লাইসেন্সে নিজের স্বাক্ষর নেওয়ার বদলে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জবাব চাইলে তিনি প্রশাসকের সাথে উদ্ধত আচরণ ও উচ্চবাচ্য করেন। গত পাঁচ মাসের সংগৃহীত ট্যাক্সের টাকাও ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় জানান, তার দীর্ঘ ৩২ বছরের চাকরিজীবনে কখনো ট্যাক্স ও লাইসেন্স নবায়নের টাকা ব্যাংকে জমা দেননি এবং এই টাকার একমাত্র অধিকার সচিবের। এমনকি তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত সদস্যদের বিভিন্নভাবে ফ্যাসিস্ট ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করছেন, যা সম্পূর্ণ চাকরিবিধি ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের পরিপন্থী। এহেন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত বদলি ও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered