
বরগুনায় মাদক-জুয়া-কিশোরগ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক অর্ধশতাধিক
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনায় মাদক, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম মনির নির্দেশনার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাথরঘাটা উপজেলায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর পৃথক অভিযানে ৪০ জনকে আটক করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় নয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি নিজ জেলা বরগুনা সফরকালে চিফ হুইপ ও বরগুনা ২ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। জেলার প্রশাসনসহ পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা প্রশাসনকে এসব অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ২১ জনকে আটক করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় নয়টি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ।
এরপর, ২৩ অক্টোবর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার ৪ নম্বর সদর ইউনিয়নে অনলাইন জুয়াবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে আরও ১৯ জনকে আটক করা হয়। দুই দিনের পৃথক অভিযানে মোট ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে চারজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পাথরঘাটাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের উদ্যোগকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে ধারাবাহিক নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চিফ হুইপের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বরগুনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।