প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং
আমতলীতে মাদ্রাসার স্টল দখলের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা: বরগুনার আমতলীতে মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার নিজস্ব স্টল জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। তাঁর নির্দেশে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি মো. শাহজাহান সরদার ও উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন হাওলাদার স্টলটিতে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্টলটি তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে আটকা পড়েছে ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পশুখাদ্য ও মাছের খাদ্য। এতে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের শুক্রবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে আমতলী উপজেলার মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার জমিতে মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় সাতটি স্টল নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্টলগুলো ভাড়া দিয়ে আসছে। গত ১ আগস্ট মাদ্রাসা ভবনের সামনের একটি স্টল ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদারকে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে তিনি পশুখাদ্য ও মাছের খাদ্য বিক্রি করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে শাহজাহান সরদার ও মোশাররফ হোসেন হাওলাদার স্টলটিতে তালা লাগিয়ে দেন। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা পণ্য বের করতে পারছেন না ব্যবসায়ী। বন্ধ রয়েছে তাঁর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম। খবর পেয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন হাসান শাহীন তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদার বলেন, “মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে স্টলটিতে পশু ও মাছের খাদ্য বিক্রি করে আসছি। বুধবার রাতে শাহজাহান সরদার ও মোশাররফ হাওলাদার আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দিয়েছেন। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পণ্য আটকা পড়েছে। আমি দ্রুত আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান সরদার স্টলে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমার কাছে ঘর ভাড়া দিয়েছে। তাই আমার ঘরে আমি তালা দিয়েছি।” তবে ভাড়ার চুক্তিপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে। শাহজাহান সরদার আরও দাবি করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম হাওলাদারের নির্দেশে তিনি স্টলে তালা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জসিম উদ্দিন হাওলাদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে নাম আসা মোশাররফ হোসেন হাওলাদারের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের বলেন, “মাদ্রাসার স্টল দখল করতে শাহজাহান সরদার ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক তালা দিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্টলে তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা খুলে দিতে বলেছি। দলের কেউ অপরাধ করলে তার দায়ভার দল বহন করবে না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।” আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় মাদ্রাসার সম্পত্তির মালিকানা, স্টল ভাড়ার বৈধতা এবং তালা দেওয়ার পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীর আটকে পড়া পণ্য উদ্ধার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered