প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 5, 2026 ইং
বরগুনায় শিক্ষকদের জন্য ডাব পাড়তে গিয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুরুতর আহত!

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের ১১৩ নম্বর দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডাব পাড়তে গিয়ে দূর্জয় নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শিক্ষার্থীকে নারিকেল গাছে উঠতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল জব্বার ও আঞ্জুমান আরা হেপীর বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিক্ষকদের ডাবের পানি পান করার জন্য কিছু টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী দূর্জয়কে নারিকেল গাছে উঠিয়ে ডাব পাড়ানো হচ্ছিল। প্রথমে দুটি গাছ থেকে ডাব পাড়ার পর তৃতীয় গাছে ওঠার সময় দূর্জয় শিক্ষক আব্দুল জব্বারকে জানায়, তার জ্বর রয়েছে এবং সে আর গাছে উঠতে পারবে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও তাকে গাছে উঠতে বলা হয়। পরে তৃতীয় গাছে ওঠার সময় দূর্জয় নিচে পড়ে যায়। প্রথমে বিদ্যালয়ের ছাদের ওপর এবং পরে ছাদ থেকে মাটিতে পড়ে সে গুরুতর আহত হয়। এতে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে যাওয়ার পাশাপাশি একটি পায়ের হাড় তিন স্থানে ভেঙে যায় বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। পরে সহকারী শিক্ষক আব্দুল জব্বার আহত শিক্ষার্থীকে কোলে করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার ডেইজির কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে দূর্জয় বরিশালের রাহাত আনোয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আঞ্জুমান আরা হেপী বলেন, ‘দূর্জয় বিভিন্ন স্থানে গাছে উঠে টাকা উপার্জন করে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসে, তাকে গাছে ওঠানো ঠিক হয়নি। শিক্ষক আব্দুল জব্বার তাকে গাছে উঠিয়ে থাকলে তিনি অনিয়ম করেছেন বলেও মন্তব্য করেন। সহকারী শিক্ষক আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার ডেইজি বলেন, “শিক্ষার্থী দূর্জয়কে গাছে উঠিয়ে থাকলে সেটি ঠিক হয়নি। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করা হচ্ছে। যেহেতু ঘটনাটি বিদ্যালয়ের ভেতরে ঘটেছে, তাই এর দায়ভার আমাদের নিতে হবে।” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে যে শিক্ষক গাছে উঠিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে শিক্ষা নিতে আসে, গাছে উঠতে নয়। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ হালদার বলেন, “যে শিক্ষক দূর্জয়কে গাছে উঠিয়েছেন, তিনি অবশ্যই অন্যায় করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered