প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 25, 2026 ইং
৩২ বছর পর দেশে ফিরলেন পাকিস্তানে হারিয়ে যাওয়া বরগুনার আছিয়া

বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বরগুনা থেকে নিখোঁজ হওয়া আছিয়া। গতকাল শুক্রবার ভোর ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পাকিস্তানে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসায় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। আছিয়ার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাকে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ‘খোঁজ ফ্যামিলি’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার দেশে ফেরার মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আছিয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানকে আবেগঘন পুনর্মিলনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ঢাকার মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আছিয়া। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবারের ধারণা হয়, আছিয়া হয়তো আর বেঁচে নেই। মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে তিন বছর আগে মারা যান তার মা রাহেলা। আছিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর একটি চক্র তাকে সদরঘাট থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে এবং পরে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। পাকিস্তানে তাকে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে বিক্রি করা হয় বলে তিনি জানান। পরে এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ সংসারজীবনে তার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর দেশে থাকা বাবা ও স্বজনদের কথা মনে পড়ে নিজের পরিচয় ও ঠিকানা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তিনি। ওই পোস্টের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। গত ২০ জুলাই থেকে ৯৫ বছর বয়সী বাবা তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলছিলেন আছিয়া। দীর্ঘ ৩২ বছর পর মেয়েকে জীবিত অবস্থায় দেখতে ও তার কণ্ঠ শুনতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ বাবা। তবে ভিডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি মেয়েকে সরাসরি কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। আছিয়ার দেশে ফেরার পথে শুরুতে পাসপোর্ট, ভিসা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার জানিয়েছিলেন, আছিয়ার জন্মনিবন্ধন বা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ট্রাভেল পাসের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। অবশেষে সেই জটিলতা পেরিয়ে শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশে পা রাখলেন আছিয়া। ৩২ বছর পর মাতৃভূমিতে ফিরে আসার এই মুহূর্তে তার পরবর্তী অপেক্ষা এখন বরগুনার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার। আছিয়ার দেশে ফেরার খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বিশেষ করে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ৯৫ বছর বয়সী বাবা তমিজ উদ্দিন মেয়েকে সরাসরি কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বিচ্ছেদের পর বাবা-মেয়ের এই পুনর্মিলন ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুতই বরগুনায় বাবার সঙ্গে দেখা হবে আছিয়ার। আর সেই মুহূর্তেই ৩২ বছরের অপেক্ষা ও বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণতা পাবে তাদের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered