প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 7, 2026 ইং
বরগুনায় মাদক অভিযান ও বিদেশি মুদ্রা গায়েব নিয়ে অপপ্রচারে পুলিশের ব্যাখ্যা

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের পর তা পুলিশ গায়েব করেছে, এমন অভিযোগ নিয়ে সোমবার সকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারের পর এবার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বরগুনা জেলা পুলিশ মো: কুদরত ই খুদা। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার এক প্রেস রিলিজে দাবি করেন, অভিযানের সময় ৫৭টি কম্বোডিয়ান ১০০ রিয়েলের নোট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছিল। এর আগে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ক্রোক এলাকায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিদেশি মুদ্রা পরে গায়েব হয়ে গেছে। ওই প্রতিবেদন প্রচারের পরই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়। পুলিশের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর ইউনিয়নের ক্রোক এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসায়ী জসিম পঞ্চায়েত ও তার ভাই নুরু পঞ্চায়েতকে আটক করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নুরু পঞ্চায়েতকে বাড়ির সামনের উঠান থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, নুরুকে ছাড়িয়ে নিতে বাড়ির নারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেন। এতে এসআই মঞ্জুরুল হাসান ও কনস্টেবল রাকিবুল আহত হন। পরে নুরু পঞ্চায়েতের কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। তবে ঘটনার পর সামনে আসে বিদেশি মুদ্রার বিষয়টি। পুলিশের ভাষ্য, নুরুর ঘরের দোতলার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে রাখা লাল খাম থেকে ১০০ রিয়েল মূল্যমানের ৫৭টি কম্বোডিয়ান নোট উদ্ধার করা হয়। নোটগুলোতে ‘NATIONAL BANK OF CAMBODIA 2014’ লেখা ছিল বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার তার প্রেস রিলিজে বলেছেন, মুদ্রাগুলোর মালিকানার বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার যোগাযোগের পরও তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দিতে পারেননি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর নুরু পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে Foreign Exchange Regulation Act, 1947-এর ২৩(১) ধারায় মামলা করা হয়। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ১০০ কম্বোডিয়ান রিয়েল নোটের মূল্য ৩ টাকা ৩ পয়সা। সে হিসাবে ৫৭টি নোটের মোট বাংলাদেশি মূল্য ১৭২ টাকা ৭১ পয়সা। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়া এএসআই অনিক ভিডিও ধারণ করেছেন। পাশাপাশি মুদ্রা উদ্ধারের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে জেলা পুলিশ। প্রেস রিলিজে জেলা পুলিশ আরও দাবি করেছে, পলাতক জসিম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। তাকে মাদক মামলায় মাদকের সরবরাহকারী ও পাইকারি ব্যবসায়ী হিসেবে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, জসিমের স্ত্রী জেসমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ তথ্য প্রচার করছেন।
বরগুনা জেলা পুলিশ তাদের প্রেস রিলিজে দাবি করেছে, অভিযানের প্রতিটি কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered