প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 25, 2026 ইং
বরগুনায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল

সাইফ সোহেল ।। বিশেষ প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমে বরগুনা জেলাজুড়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে ডোবা ও অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটার ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্তের জমে থাকা পানিতে পড়ে একাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বরগুনা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট শনিবার সকালে বরগুনার তালতলী উপজেলার কাজীরখাল গ্রামে বাবার অগোচরে বাড়ির পাশের একটি ডোবার পানিতে পড়ে যায় তিন বছরের শিশু সাইমন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পর তাকে ডোবায় ভাসতে দেখে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে তিন ইউনিয়নের একমাত্র খেলার মাঠ কেটে সংযোগ সড়কের মাটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার মো. মিলনের বিরুদ্ধে। মাঠে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তের জমে থাকা পানিতে ডুবে খাদিজা নামের তিন বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ঠিকাদার গর্তগুলো ভরাট করেননি, উল্টো প্রতিবাদকারীদের নানা হুমকি দিয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাঁর ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন ও সচেতনতামূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন— "চলতি আগস্ট ২০২৬ এ পর্যন্ত বরগুনা থানা এলাকায় পানিতে পড়ে ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং কষ্টদায়ক। এই সবগুলোর দুর্ঘটনার খবর নিলে দেখা যাচ্ছে অভিভাবকরা সবাই খুবই অসচেতন ছিলেন। এখন বর্ষা মৌসুম চলছে, চতুর্দিকে নালা, ডোবা, পুকুর, খাল সব পানিতে পূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার না হয়। সকলকে সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করা গেল।"
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু শোক প্রকাশ বা দায় সারা বক্তব্য নয়, বরগুনার এই শিশু মৃত্যুর মিছিল থামাতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বর্ষা মৌসুমে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের চোখের আড়াল করা যাবে না। উঠান বা ঘরের চারপাশের জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বেড়া দেওয়া বা কড়া নজরদারিতে রাখা আবশ্যক। উন্নয়ন কাজের নামে খেলার মাঠ বা ফসলি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে গর্ত তৈরি করার দায়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। উন্মুক্ত ডোবা, নালা ও খালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের উদ্যোগে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং দ্রুত গর্তগুলো ভরাট করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রাণহানি রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার এখনই সময়।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered