প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 20, 2026 ইং
বরগুনা সদর হাসপাতালে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট: চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

সাইফ সোহেল ।। বিশেষ প্রতিনিধি: বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরের টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এই মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে চিকিৎসাধীন দরিদ্র রোগী ও তাদের স্বজনরা অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, আর আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা বাধ্য হয়ে পানের অযোগ্য ও অনিরাপদ পানি পান করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। সম্প্রতি বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল চত্বরে থাকা দুটি নলকূপই দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ নষ্ট ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীদের সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য সম্প্রতি একটি পিউরিফায়ার বা ওয়াটার সার্ভার বসানো হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। ওই মেশিনটি থেকে এক ফোঁটাও পানি আসে না। ফলে বাধ্য হয়ে তৃষ্ণা মেটাতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন মোসা. হ্যাপি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রোগীর ওষুধপত্র কেনার পাশাপাশি প্রতিদিন শুধু খাওয়ার পানির পেছনেই ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য প্রতিদিন এই বাড়তি খরচ মেটানো খুবই কষ্টকর।" আরেক ভুক্তভোগী রিনা বেগম বলেন, "হাসপাতালে আইয়া গরিব মানুষ আরও বেশি অসুস্থ হইয়া যাইতাছি। ট্যাকা না থাকায় দোকান থাইকা পানি কিনতে পারি না, বাধ্য হইয়া নলের নষ্ট পানি বা পচা পানি খাওয়া লাগে।" বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের এমটিইপিআই কর্মী মো. এনামুল কবির শেষ কথাকে জানান, "পানির অপচয় রোধ করার জন্য পিউরিফায়ার বা ওয়াটার সার্ভারে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি দেওয়া হয়"। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ পানি পানের কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো পানিজনিত রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রোগাক্রান্ত শরীরে এ ধরনের পানি পানের ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেশি। তাই জরুরি ভিত্তিতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সুপেয় পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এই সংকট নিরসনে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered