
বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনার পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা রাবেয়া আক্তার জুঁই নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে, দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চললেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় গত রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে রাবেয়া আক্তার জুঁই নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। ঢাকার মিরপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী তার বান্ধবীর সঙ্গে বরগুনা বেড়াতে এসে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও ব্যর্থ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও উদ্ধারকারী দল ওই কিশোরীর কোনো হদিস পায়নি। বর্তমানে পায়রা নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশ উদ্ধার কার্যক্রমকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে, যার ফলে নিখোঁজ কিশোরীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
কিশোরীর সঙ্গে থাকা বান্ধবী রিয়া মনি জানায়, তারা দুজনে নদীর গভীরতা সম্পর্কে অসচেতন ছিলেন এবং গোসলের এক পর্যায়ে তীব্র স্রোত ও ট্রলার যাওয়া আসার ঢেউয়ের কবলে পড়েন তারা। রিয়া মনি কোনোমতে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও জুঁই স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লতাকাটা খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী এলাকায় পানির গভীরতা এবং স্রোতের তীব্রতা সম্পর্কে কোনো সতর্কতামূলক সংকেত বা নির্দেশনা না থাকায় প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। নিখোঁজ জুঁইয়ের মা তাসলিমা আক্তার জানান, তার মেয়ে সাঁতার জানত না, অথচ এ বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই না বুঝে নদীতে নামায় এই অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং নদীর পরিস্থিতি বিবেচনায় পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়েছে। পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, নদীর তলদেশের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রবল স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পর্যটন ও গ্রামীন জনপদে নদীকেন্দ্রিক বিনোদনের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই করেনি, বরং বরগুনার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকেও স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বা নিখোঁজের পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াঘাট ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদীতে নামার প্রবণতা এবং নিরাপত্তার গাফিলতি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ভ্রমণকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে, যা জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।