প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 9, 2026 ইং
ছুটির দিনে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ: সাংবাদিকদের বাধা!

বরগুনা প্রতিনিধি: সরকারি ছুটির দিনে বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং অসদাচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কিছু কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার এবং দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই কার্যালয়ে যান।
সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান। পরে তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় নকলখানায় যান। তাঁদের দাবি, সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকেরা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, সরকারি ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি অবগত নন! পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা। তাঁদের ভাষ্য, বাশার খান নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহসম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়াও সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় বাশার খান তাঁদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁদের হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আচরণ সংযত করতে বলেন। এদিকে নকলখানার রেকর্ড কিপারের কাছে সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকেরা। তাঁদের দাবি, রেকর্ড কিপার বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্র বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered