প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং
প্রবাসে উপার্জিত কোটি টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাত: স্ত্রী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ২ ভাইয়ের

পাথরঘাটা প্রতিনিধি : প্রবাসের তপ্ত মরুভূমিতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন দুই প্রবাসী ভাই। কিন্তু দেশে ফিরে তারা দাবি করছেন, কষ্টার্জিত এক কোটি টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার হারিয়ে এখন নিঃস্ব অবস্থায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাদের। ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মাইদুল ইসলাম বরগুনার পাথরঘাটা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের দুই স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত একটি মামলায় বরগুনা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অপর মামলায় সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম কুয়েতে এবং তার ভাই মাইদুল ইসলাম দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। তারা একই উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের দুই বোন মিতু শারমিন ও মহিমাকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে উপার্জিত অর্থ তারা নিয়মিত স্ত্রীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। তাদের দাবি, ওই অর্থ দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে একটি আলিশান ভবনও নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি দেশে ফিরে রফিকুল ইসলাম জানতে পারেন, তার অজান্তেই স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। অন্যদিকে মাইদুল ইসলামের স্ত্রীও বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের পর এখন তাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রফিকুল ও মাইদুল বলেন, “শ্বশুর-শাশুড়ি আমাদের নিজেদের সন্তানের মতো দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসে উপার্জনের সব টাকা তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছি। এখন আমাদের টাকায় তারা বিলাসী জীবন কাটিয়ে আমাদেরই পথে বসিয়ে দিয়েছে।” পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী হাওলাদার এবং চরদুয়ানি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি। স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তারা দাবি করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, দুই বোনের পরকীয়ার জেরেই স্বামীদের অর্থ আত্মসাৎ করে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত মিতু শারমিন ও মহিমার বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered