প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং
তালতলীর গেন্ডামারায় সড়ক-সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গেন্ডামারা গ্রাম যেন এখনো উন্নয়নের মানচিত্রের বাইরে। প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষের বসবাস হলেও আজও গ্রামটিতে নেই একটি পাকা সড়ক কিংবা খাল পারাপারের জন্য একটি স্থায়ী সেতু। চারদিক খালবেষ্টিত এই গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও গেন্ডামারা গ্রামে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। নানা সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে গ্রামের ভেতরে একটি পাকা সড়কও নির্মিত হয়নি। গ্রামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থাকলেও বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কাদায় ডুবে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এতে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। গ্রামে প্রবেশের প্রধান দুটি সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। অধিকাংশ সড়কই কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটাচলাই দুরূহ হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন এলাকাবাসী। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে বা গর্ভবতী নারীর প্রসবব্যথা উঠলে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। এদিকে গ্রামের তিনটি ব্রিজ ও কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা বা চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হয়ে যায় অথবা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় নানা আশ্বাস মিললেও পরে সেগুলোর বাস্তবায়ন আর হয় না। গেন্ডামারা গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ, প্রধান সড়কগুলো পাকা করা, ভেঙে পড়া ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered