প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং
আধুনিক ভবন আছে, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক: সংকটে বরগুনার ২ সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদান

বরগুনা প্রতিনিধি: আধুনিক বহুতল ভবন, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা থাকলেও শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী দুটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বরগুনা জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে এক বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন অন্য বিষয়ের শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ দুটি বিদ্যালয়ে সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের ক্লাস পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাইরের কোচিং বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জিলা স্কুলে মোট ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। বাংলা, ইংরেজি, ভৌতবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ একাধিক বিষয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আইসিটি ও হিন্দুধর্ম বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। অন্যদিকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়েও একই চিত্র। সেখানে ৫২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকসহ বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, ভূগোল, ইসলাম শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষাসহ মোট ২৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশান বলেন, "শিক্ষক সংকটের কারণে একই শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।" একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল হাসনাইন হামী বলেন, "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের আলাদা শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। এতে বিষয়টি ঠিকভাবে শেখা সম্ভব হচ্ছে না।"
সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা ইসলাম বলেন, "একজন শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে অনেক বিষয়ই গভীরভাবে শেখা সম্ভব হচ্ছে না। আইসিটি ল্যাবও কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।"
এছাড়াও জিলা স্কুলের শিক্ষক মো. আল হাদী দুলাল বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রাসেদুজ্জামান বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পদোন্নতি ও গ্রেড-সংক্রান্ত বৈষম্যের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষক অন্য চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। এ সমস্যার সমাধান হলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বরগুনার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। শূন্য পদের তালিকা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত পাঠদানের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক। তাই দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে বরগুনার এই দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered