প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 26, 2026 ইং
স্থায়ী জায়গার অভাবে বেতাগী বন বিভাগের নার্সারি কার্যক্রম ব্যাহত

বেতাগী প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী উপজেলা বন বিভাগের নার্সারির জন্য স্থায়ী জায়গা না থাকায় চারা উৎপাদন ও সবুজায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একাধিকবার স্থান পরিবর্তনের পর বর্তমানে অপরিসর ও অরক্ষিত স্থানে অস্থায়ীভাবে নার্সারি পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চারা উৎপাদনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নতমানের চারা উৎপাদন ও বিতরণের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পাশে বন বিভাগের নার্সারি স্থাপন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি সেটি ডরমেটরি সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নয়নকাজের কারণে উপজেলা নির্বাচন অফিসের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জমিতে নার্সারিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
ওই স্থানে রেন্ট্রি, মেহগনি, আম, কাঁঠাল, বহেরা, জাম ও অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার চারা সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন করে আরও ১০ হাজার পলিব্যাগে চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সেখানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ভবন নির্মাণ শুরু হলে আবারও নার্সারি স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়। বন বিভাগের অভিযোগ, পূর্ব অবহিত না করেই ভবন নির্মাণের ফলে চারা ও পলিব্যাগসহ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনের ভেতরে সাময়িকভাবে নার্সারি স্থাপন করা হলেও জায়গাটি চারা উৎপাদনের জন্য উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেতাগী উপজেলা সামাজিক বনায়ন বাগান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, দপ্তর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নার্সারির জায়গা নিয়ে সংকট চলছে। স্থায়ী জায়গার অভাবে চারা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি সম্পদেরও ক্ষতি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমান নার্সারির স্থানটি অপরিসর ও অরক্ষিত। আগাছার মধ্যে সীমিত পরিসরে কিছু চারা বেড়ে উঠছে, যা স্থানীয়দের মতে মানসম্মত চারা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়।
স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী সালমা বেগম বলেন, সরকারি নার্সারিতে পর্যাপ্ত চারা না থাকায় বাইরে থেকে বেশি খরচে চারা কিনতে হচ্ছে। এসব চারার মান নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। পরিবেশকর্মী খাইরুল ইসলাম মুন্না বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চারা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী নার্সারির অভাবে সবুজায়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বরগুনা জেলার সহকারী বন সংরক্ষক নুরুন নাহার জানান, উপজেলা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নার্সারির জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুজন বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন, সরকারি নার্সারির কার্যক্রম সচল রাখা পরিবেশ রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। চারা উৎপাদন ব্যাহত হলে স্থানীয় সবুজায়ন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, বর্তমানে অস্থায়ীভাবে নতুন স্থানে নার্সারি পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী ও উপযোগী জায়গা বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered