প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 24, 2026 ইং
আমতলীতে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানী (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ ফেলে স্বামী ও তার স্বজনরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামীকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে ঘটে। শুক্রবার সকালে সুপ্রিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা বিমল ব্যাপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সুপ্রিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র সুপ্রিয়াকে মারধর করেন। মারধরের সময় সুপ্রিয়া মুঠোফোনে তার মাকে বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে অজয় চন্দ্র ও তার স্বজনরা সুপ্রিয়াকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্বামী ও তার স্বজনরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের মা দেপালী রানী বলেন, "আমার জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।" নিহতের ১১ বছর বয়সী মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলে, "বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা আমার মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।" এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, "এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।" পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরকীয়া ও হত্যার অভিযোগগুলো নিহতের পরিবার এবং মামলার এজাহারে উপত্থাপিত অভিযোগ।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered