প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
তালতলীতে সরকারি দুটি IPS-এর ব্যাটারি অনুমোদন ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ!

তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের ডরমেটরিতে ব্যবহৃত সরকারি দুটি আইপিএস ব্যাটারি নিলাম বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ডরমেটরি চালুর পর সেখানে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি আইপিএস স্থাপন করা হয়। ওই আইপিএসে ব্যবহৃত দুটি ব্যাটারি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ হিসেবে ডরমেটরিতে সংরক্ষিত ছিল। পরে ব্যাটারি দুটি অকার্যকর হয়ে পড়লে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন কোনো ধরনের নিলাম, টেন্ডার বা উপজেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি দুটি বিক্রি করে দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয়। সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত ও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানেন না। এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জিব চন্দ্র সাহা বলেন, “ডরমেটরির দুটি আইপিএস ব্যাটারি এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর কক্ষের সামনে দীর্ঘদিন রাখা ছিল। তিনি মেরামতের কথা বলে নিয়ে গেছেন। পরে বিক্রি করেছেন কি না, তা আমার জানা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দুটি পুরাতন ব্যাটারি আগের উপজেলা প্রকৌশলীর সময়ের ছিল। অকেজো হয়ে যাওয়ায় সাত হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির টাকা এলজিইডি অফিসের এক কর্মচারীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে!”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ডরমেটরি চালুর শুরু থেকেই উপজেলা পরিষদের একটি আইপিএস ও দুটি ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বর্তমানে এগুলো অকেজো। এগুলো উপজেলা পরিষদের সরকারি সম্পদ। সরকারি নিয়ম অনুসরণ ছাড়া এসব বিক্রি করার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যাটারি বিক্রির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভাতেও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সচেতন মহল।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered