প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
তালতলী আলীর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে বসবাস ও রান্নার অভিযোগ!

তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যালয় ভবনে ব্যক্তিগতভাবে বসবাস ও রান্না করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে জনপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন, যা পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত, সেটি প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে বসবাস ও রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার সরকারি সম্পদের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে জনপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা আদায়ের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, সরকারি অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দেব না। যেখানে দেওয়ার দরকার সেখানে দেব। আর স্কুলে রান্নাবান্নার ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়, আমি অফিসের অনুমতি ছাড়া রান্না করছি?”
কিন্তু তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তাদেরকে স্কুলে রান্নাবান্না করে খেতে বলিনি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি! এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে -
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, যদি সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন ব্যক্তিগত বসবাস ও রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার পরিবেশ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার শৃঙ্খলার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইভাবে, সেশন ফির নামে আদায় করা অর্থ যদি প্রচলিত নীতিমালা ও যথাযথ অনুমোদন অনুযায়ী না হয়ে থাকে, তাহলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে কীভাবে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ভিন্ন কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered