প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 18, 2026 ইং
বামনায় ফিরে পাওয়া কিশোরীকে ফের অপহরণের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী মা!

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা উপজেলার এক প্রবাসী মা আদালতের আদেশে ফিরে পাওয়া তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে পুনরায় অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ সময় তাকে ও তার স্বামীকে মারধর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। গত শনিবার (১৮ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সুলি আক্তার (৪৮)। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে একই এলাকার শাহারিয়ার রাফি তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মেয়েটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে প্রথমে তাকে নিরাপদ আবাসনে রাখা হয়। পরে গত ১২ জুলাই আদালত মেয়েটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। সুলি আক্তারের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওইদিন দুপুরে মেয়েকে নিয়ে সিএনজিযোগে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে।
তার দাবি, শাহারিয়ার রাফির নেতৃত্বে আমজেদ আলী খান, শামীম খান, রুমি বেগম, রুহুল আমীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জন সিএনজি থামিয়ে জোরপূর্বক তার মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়। পরে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তার স্বামীকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ ঘটনায় তিনি মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুলি আক্তার বলেন, "আমি একজন অসহায় মা। আদালতের জিম্মায় ফিরে পাওয়া আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে প্রকাশ্যে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার মেয়ের নিরাপদ উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।" তিনি প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—অপহৃত কিশোরী ফারহানা আক্তার সুমাইয়াকে দ্রুত জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার, হামলা-অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া নগদ অর্থ, পাসপোর্ট, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী, প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে -
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered